দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গরুর দাম যে কোটি কোটি টাকা হতে পারে, তা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য। তবে ব্রাজিলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ‘নেলোর’ জাতের একটি গরু বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ৪০ কোটি রুপিতে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, ‘ভিয়াতিনা-১৯’ নামের এই গরুটিই বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি গবাদিপশু।
মাত্র ৫৩ মাস বয়সি এই গরুর ওজন প্রায় ১ হাজার ১০১ কেজি, যা নেলোর জাতের সাধারণ গরুর গড় ওজনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ধবধবে সাদা চামড়া, ঝুলে থাকা ত্বক এবং কাঁধের ওপর স্পষ্ট কুঁজের কারণে গরুটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।
শুধু দামের কারণেই নয়, আন্তর্জাতিক গবাদিপশু প্রতিযোগিতা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ অংশ নিয়ে ‘মিস সাউথ আমেরিকা’ খেতাবও জিতেছে ভিয়াতিনা-১৯। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাকে গবাদিপশুদের ‘মিস ইউনিভার্স’ হিসেবেও পরিচিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিখুঁত শারীরিক গঠন, শক্তিশালী পেশি এবং বিরল বংশগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই গরুটি এত মূল্যবান হয়ে উঠেছে। প্রাণিচিকিৎসকদের ভাষায়, একটি আদর্শ গরুর যেসব বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন, তার প্রায় সবই রয়েছে ভিয়াতিনা-১৯-এর মধ্যে।
বিশেষ করে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্র আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তির জন্য নেলোর জাত বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এ কারণে উন্নত জাতের গবাদিপশু প্রজনন কর্মসূচিতে ভিয়াতিনা-১৯-এর ভ্রূণের চাহিদাও ব্যাপক বেড়েছে।
ইতিহাস বলছে, ব্রাজিলের গবাদিপশু শিল্পের সঙ্গে রয়েছে গভীর ভারতীয় সংযোগ। ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের প্রায় ৮০ শতাংশ গবাদিপশুই ভারতীয় ‘জেবু’ উপজাতির বংশধর। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো পিঠের ওপর কুঁজ এবং গলার নিচে ঝুলন্ত চামড়া।
ভিয়াতিনা-১৯ যে নেলোর জাতের অন্তর্ভুক্ত, সেটিকে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের ‘অনগোল’ জাতের বংশধর হিসেবে ধরা হয়। ধারণা করা হয়, প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই জাতের উৎপত্তি হয়েছিল এবং ১৮০০ শতকের দিকে প্রথম ব্রাজিলে নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্তমানে ব্রাজিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় নেলোর গরু প্রজননকারী দেশ। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ২৩ কোটি গরু রয়েছে, যার বড় একটি অংশই নেলোর জাতের। মূলত উন্নত মানের মাংস উৎপাদনের জন্য এসব গরু পালন করা হয়।
ব্রাজিল থেকে এখন আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, ভেনিজুয়েলা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে এই জাতের গরু রপ্তানি করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ৪০ কোটি টাকায় বিক্রি হওয়া ভিয়াতিনা-১৯ এখন গবাদিপশু শিল্পের ইতিহাসে এক অনন্য নাম হয়ে উঠেছে।
এমএস/